আভা ডেস্ক : এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে আজ চালু হচ্ছে ভারতীয় ভিসা সেন্টার। শপিংমলের গ্রাউন্ড মাইনাস-১ (বেজমেন্ট বি-১) দক্ষিণ কোর্টে এ ভিসা সেন্টারটি বেলা ১১টায় উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এটি উদ্বোধনসহ কয়েকটি উপলক্ষ ঘিরে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার ঢাকায় এসেছেন।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার বর্গফুট স্থানজুড়ে নতুন এ সেন্টারে একই সময়ে ৭০০ লোক অবস্থান করতে পারবেন। ৪৮টি কাউন্টারে ভিসাপ্রত্যাশীদের সেবা দেয়া হবে। প্রতিদিন অন্তত ৬ হাজার ব্যক্তি পাসপোর্ট জমা দিতে পারবেন।
সূত্র বলছে, নতুন এ ভিসা আবেদন কেন্দ্রটি হবে ‘মডেল ভিসা কেন্দ্র’। সুপরিসর এ কেন্দ্রে থাকছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত টোকেন ভেন্ডিং মেশিন (প্রতীক্ষা সময় নির্দেশিত হবে), আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অপেক্ষা করার স্থান, কফি ও কোমল পানীয় ভেন্ডিং মেশিন ও খাবার সুবিধা। জ্যেষ্ঠ নাগরিক, নারী, মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসা ভিসা আবেদনের জন্য আলাদা কাউন্টার থাকছে। একটি বিশেষ সহায়তা ডেস্ক এবং প্রিন্টিং, ফটোকপি ইত্যাদি সেবার জন্যও থাকছে বিশেষ কাউন্টার।
সূত্রমতে, মতিঝিল ও উত্তরায় অবস্থিত ভিসা আবেদন কেন্দ্র রোববার থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক কেন্দ্রে প্রতিস্থাপিত হবে। গুলশান ও মিরপুর রোড ভিসা আবেদন কেন্দ্র ৩১ আগস্টের মধ্যে স্থানান্তরিত হবে এখানে। এরপর থেকে ঢাকায় এটিই হবে একমাত্র ভিসা আবেদন কেন্দ্র। পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎকারসূচি (ই-টোকেন) ছাড়াই এখানে ভিসার আবেদন করতে পারবেন ভিসাপ্রত্যাশীরা।
যমুনা ফিউচার পার্ক সর্বাধুনিক, কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত শপিংমল। এর মধ্যে এ ভিসা সেন্টার চালু হওয়ার খবরে ভিসাপ্রত্যাশীদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। এতদিন রাজধানীর ভিসাপ্রত্যাশীরা রোদ-বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে নানা দুর্ভোগের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিসা সেন্টারগুলোর বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করে আসছিলেন। এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে এখন। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের অ্যাটাশে কর্মকর্তা রঞ্জন মণ্ডল শুক্রবার যুগান্তরকে জানান, শনিবার (আজ) বেলা সাড়ে ১১টায় দু’দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন এ ভিসা সেন্টার উদ্বোধন করবেন। বিশ্বের তৃতীয় ও এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে এ ভিসা সেন্টারটির উদ্বোধন হওয়ায় আমরা যেমন আনন্দিত, তেমনি ভিসাপ্রত্যাশীরাও আনন্দিত। আমরা সাধারণ লোকজনকে অত্যাধুনিক এ শপিংমলে আরও বেশি ও আরামদায়ক সেবা দিতে পারব। নতুন এ ভিসা কেন্দ্রে ঢাকায় বিদ্যমান ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো প্রতিস্থাপিত হবে। একই সঙ্গে ভারতীয় ভিসা আবেদন জমা দেয়ার জন্য বিদ্যমান ই-টোকেন ব্যবস্থাও প্রত্যাহার করা হবে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারতীয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সমন্বিত করা এবং ভারত-বাংলাদেশের মানুষে মানুষে সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য ভারতীয় হাইকমিশনের অব্যাহত প্রচেষ্টার প্রতিফলন এ কেন্দ্র। এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ভারতীয় স্টেট ব্যাংকের সহযোগিতায়। শুক্রবার এ ভিসা সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে, কাউন্টার ও বসার স্থান প্রস্তুত। সেগুলোয় চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। সাঁটানো হচ্ছে ভারতের ঐতিহাসিক ও আকর্ষণীয় স্থানের ছবি, নানা নির্দেশনাসংবলিত স্টিকার। বিভিন্ন স্থান থেকে বহু দর্শনার্থীও সেন্টারটি ঘুরে দেখছেন। শুক্রবার গুলশান থেকে আসা সৈয়দ জহিরুল ইসলাম ও পিংকি ইসলাম দম্পতি সেন্টারটি দেখছিলেন। যুগান্তরকে জহিরুল ইসলাম বলেন, এর চেয়ে আধুনিক ভিসা সেন্টার হতে পারে না। যমুনা ফিউচার পার্ক আমাদের গর্ব, অহংকার। বিশ্বে পরিচিত এ শপিংমলে রাজধানীর সব কটি ভারতীয় ভিসা সেন্টার স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সত্যিই অতুলনীয়। তিনি আরও বলেন, বেশ কয়েকবার রোদ-বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থেকে ভিসা সংগ্রহ করেছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিসা সেন্টারগুলোর সামনে, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থেকেছি। নতুন এ ভিসা সেন্টার উদ্বোধন হলে সেসব কষ্ট মানুষ শুধু ‘গল্প’ হিসেবেই মনে রাখবে।
মিরপুর রোডে (শ্যামলী) ভিসা সেন্টার থেকে কয়েকবার ভিসা নিয়েছেন রাজধানীর চানখাঁরপুলের ব্যবসায়ী হারুন-অর-রশিদ। শুক্রবার নতুন এ সেন্টারটি দেখতে এসে জানান, যমুনা ফিউচার পার্কে ঢুকলেই শরীর-মন শীতল হয়ে যায়। এমন একটা শপিংমলে রাজধানীর সব কটি ভারতীয় ভিসা সেন্টার স্থানান্তর হচ্ছে- এটা ভারতীয় ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য খুশির সংবাদ।
যুগান্তর
