রাজশাহী প্রতিনিধি:
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে চাবুক দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন এবং নিজের বাবাকে ‘নমরুদ’ বলে তিরস্কার করার অভিযোগে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানায় এক মাদকাসক্ত যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোসাঃ হীরা ইয়াসমিন (৩২) বাদী হয়ে শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে বোয়ালিয়া মডেল থানায় এই এজাহারটি দায়ের করেন। (মামলা নং-৩, তারিখ: ০৩/০৭/২০২৬)।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৩ বছর আগে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পারিবারিকভাবে হীরা ইয়াসমিনের সঙ্গে বোয়ালিয়া থানা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আল মামুন সনেটের (৩৫) বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে সনেট স্ত্রীর পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিলেন এবং ভুক্তভোগীর পরিবার কয়েক দফায় তাকে টাকাও প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি অভিযুক্ত সনেট পুনরায় দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর অভিযোগ, গত ১ জুলাই সকাল ৯টার দিকে মহানগরীর সাধুর মোড় এলাকার বাসায় ওই যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সনেট ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে সনেট চাবুক দিয়ে স্ত্রীর পিঠে উপুর্যপরি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এই ঘটনা ও নির্যাতনের বিষয়ে বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীর নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত সনেটের বাবা আসলাম আলী ছেলের এই বর্বরতায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,
”আমার ছেলে সনেট দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং পরিবারের কারও কথা শোনে না। তাকে ভালো পথে ফিরিয়ে আনতে শাসন করতে গেলে সে উল্টো মারমুখী আচরণ করে। এমনকি আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করাসহ ‘নমরুদ’ বলে তিরস্কার করে। বাবা হিসেবে আমি সমাজের কাছে এবং ছেলের এমন আচরণে চরমভাবে বিব্রত।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আল মামুন সনেটের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুমা মুস্তারী জানান, ভুক্তভোগী গৃহবধূর লিখিত অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। অপরাধী অত্যন্ত জঘন্য কাজ করেছে। আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
