নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহীর ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) শাখার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে আইএইচটি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। গতকাল (সোমবার) উক্ত ছাত্রলীগ নেতা কলেজে আসলে তাকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়।
আটককৃত ছাত্রলীগ নেতার নাম নাইমুল ইসলাম (২৫)। তিনি দুর্গাপুর থানার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে শাহমখদুম থানার খ্রিষ্টান পাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে নাইমুল ইসলাম পলাতক ছিলেন। পলাতক থাকা অবস্থায় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রদলকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের গুজব এবং অপতৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন। গতকাল তিনি গোপনে আইএইচটি কলেজে আসলে বিষয়টি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নজরে আসে।
পরবর্তীতে আইএইচটি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ রকি এবং সদস্য সচিব মো: আয়াতুল্লাহ খমেনীর নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে আটক করেন এবং রাজপাড়া থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।
পূর্বের মারধর ও চুরির ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি নাইমুল
প্রাপ্ত তথ্য ও “1000182217.jpg” ফাইলের আইনি নথির বিবরণ অনুযায়ী, আটককৃত নাইমুল ইসলাম ও তার সহযোগী আফরোজ আফিফা অ্যানির বিরুদ্ধে পূর্বেও রাজপাড়া থানায় সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধর ও চুরির অভিযোগে লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছিল।
মাসুদা আক্তার পায়েল নামের এক শিক্ষার্থীর দায়ের করা ওই অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতা এবং ফেসবুকে লাইক/কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নাইমুল ও তার সহযোগী অ্যানি মুঠোফোনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন। পরবর্তীতে ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকাল আনুমানিক ১০:০০ ঘটিকায় আইএইচটি কলেজের মাঠে নাইমুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে বেদম মারধর করে সাধারণ জখম করেন। মারধরের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর একটি ১২,০০০ টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন এবং আনুমানিক ৫০,০০০ টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের আংটি চুরি করে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে নাইমুলের বিরুদ্ধে।
ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের এই নেতা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজপাড়া থানা পুলিশ জানায়, আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

