রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় মহানগরজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুন রাতে চন্দ্রিমা ও বোয়ালিয়া থানা পুলিশের যৌথ অভিযান এবং রাজপাড়া থানার একক অভিযানে মোট ৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানে আসামিদের হেফাজত থেকে মোট ২ হাজার৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৫ কেজি গাঁজা, মাদক বিক্রির নগদ ৩৯ হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ০৫ জুন রাত আনুমানিক পৌনে ৯ টায় চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে চন্দ্রিমা থানা ও বোয়ালিয়া মডেল থানার একটি সমন্বিত যৌথ টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মো: মোশারফ হোসেন (৪২) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। সে রাজশাহী জেলার বাঘা থানার ভানুকর (মীরগঞ্জ) এলাকার মো: আবেদ আলীর ছেলে।
আটকের পর তার হেফাজত হতে ২,০৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রয়ের নগদ ৩৯,০০০ টাকা এবং ২টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃত মোশারফের বিরুদ্ধে পূর্বে আরও ১টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
একই রাতে (০৫ জুন) আনুমানিক ৯ টায় রাজপাড়া থানা পুলিশের একটি টিম ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনি এলাকার একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে গাঁজা কেনাবেচা ও প্যাকেটজাতকরণের সময় হাতেনাতে ৪ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন: ১. মো: আকবর আলী (৩২) – পিতা: মৃত আইয়ুব আলী, সাং- ডিঙ্গাডোবা নিমতলা মোড়। ২. মো: সাকিব ওরফে অন্তর (২৬) – পিতা: মৃত রতন, সাং- ডিঙ্গাডোবা মোজাম্মেলের মোড়। ৩. মো: সিফাত হোসেন ওরফে কাউসার (২৪) – পিতা: মো: ফজলু রহমান, সাং- দাশপুকুর আলীর মোড়।
৪. মো: নাসির উদ্দীন (৩৫) – পিতা: মো: আক্কাস আলী, সাং- দাশপুকুর।
অভিযানকালে এই চক্রের কাছ থেকে ১৫ কেজি গাঁজা, মাদক প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যবহৃত ৪টি কাঁচি এবং ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাকিবের বিরুদ্ধে ১টি, সিফাতের বিরুদ্ধে ১টি মাদক মামলা এবং নাসিরের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ও জুয়া আইনে ১টি করে মামলা চলমান রয়েছে।
আরএমপি সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, মহানগরীকে মাদক মুক্ত করতে কমিশনারের কঠোর নির্দেশনায় আরএমপি’র এই নিয়মিত অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
