নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজশাহীর বাগমারায় ছাত্রদলের তিন নেতার বিরুদ্ধে যুবদলের এক নেতাকে মারধর করে আহত করা এবং তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গোয়ালকান্দি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আসাদুল ইসলাম (৩৮) গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা কমিটির সদস্য। তিনি কেবল টিভি ও ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত তিনজনই গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁরা হলেন নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, হামির কুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন এবং গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম।
আসাদুল ইসলামের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে গোয়ালকান্দি বাজারে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে থাকা অবস্থায় পারভেজ রানার নেতৃত্বে চার থেকে পাঁচজন সেখানে প্রবেশ করেন। এ সময় কেবল টিভি ও ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা লাঠি ও রড দিয়ে তাঁকে মারধর করেন এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শুক্রবার সকালে আসাদুল ইসলাম দাবি করেন, পারভেজ রানার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এর জের ধরেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তবে ছাত্রদল নেতা পারভেজ রানা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আসাদুল ইসলাম এক নারীর ডিশ ব্যবসা দখল করে নেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারী তাঁকে, সুমন ও শাহীনকে সঙ্গে নিয়ে আসাদুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে আলোচনার সময় অন্যদের সঙ্গে সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে আসাদুল ইসলাম নিজেই তাঁর ছেলেকে দিয়ে ফেসবুক লাইভ করে মিথ্যা ঘটনা প্রচার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ বা মামলা হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
