দুর্গাপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজশাহী: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বারবার হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন মো. আব্দুর রাজ্জাক (৪২) নামের এক ব্যক্তি। উপজেলা ভূমি অফিসের দুই কর্মচারীর ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রশাসনকে প্রভাবিত করার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
​গত ২৯ জুলাই (২০২৬) জেলা প্রশাসক বরাবর দায়ের করা লিখিত আবেদনে আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি দুর্গাপুর উপজেলার ৭ নং জয়নগর ইউনিয়নের আনুলিয়ার বিলে চাষাবাদ-অযোগ্য জমিতে নিয়ম মেনে পুকুর খননের কাজ করছিলেন। পুকুরটির মাটি সীমানার বাইরে না নিয়ে কেবল পাড় বাঁধার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই কাজের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তা ও মৎস্য কর্মকর্তার প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্রও গ্রহণ করা হয়েছিল।
​অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুর্গাপুর উপজেলার লক্ষণখলসী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. ইমান আলী এবং উপজেলা ভূমি অফিসের নৈশপ্রহরী মো. ইব্রাহিম হোসেন সরকারি চাকরির পাশাপাশি গোপনে এক্সকাভেটর (ভেকু মেশিন) ভাড়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের কাছ থেকে ভেকু মেশিন ভাড়া না নেওয়াতেই ক্ষুব্ধ হয়ে তারা উপজেলা প্রশাসনকে সুকৌশলে প্রভাবিত করেন। এর মাধ্যমে তারা ভেকু মেশিনের ক্ষতিসাধনসহ নানাভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।
​ঘটনার বিবরণে বলা হয়, গত ৬ জুলাই রাত আনুমানিক ৮:৩০ টায় বাগমারা মোহনগঞ্জ মাদ্রাসার সামনে একটি লোবেড ট্রলিতে রাখা এক্সকাভেটর (ভেকু মেশিন) ও দুই ড্রাইভারকে আটক করে উপজেলা প্রশাসন। পরবর্তীতে গাড়ি দুটি আটক রেখে ড্রাইভারদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং অজ্ঞাত কারণে ট্রলিটিও ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর গত ২৬ জুলাই সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে রাজ্জাক জানতে পারেন, ইমান আলী ও ইব্রাহিম হোসেনের প্ররোচনায় অপরিচিত লোকজনের মাধ্যমে বন্ধ থাকা পুকুরে থাকা তার ভেকু মেশিনেরও ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।
​এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেজন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
​তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. ইমান আলী ও মো. ইব্রাহিম হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
​বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্তপূর্বক আইনি ও কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Next Post

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারির প্রকাশ্যে চলাফেরা, জনমনে ক্ষোভ

শনি আগস্ট ১ , ২০২৬
রাজশাহী প্রতিনিধি:- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী গোদাগাড়ীর মেডিকেল পূর্বপাড়ার কালু ও দুরুলের প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অদৃশ্য কারণে প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সাথে জড়িত থাকলেও আইনের আওতায় আসছে না এই দুই […]

এই রকম আরও খবর

শিরোনাম

Chief Editor

Johny Watshon

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam, quis nostrud exercitation ullamco laboris nisi ut aliquip ex ea commodo consequat. Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur

Quick Links