মিথ্যা মামলায় জামিন পেলেন গোদাগাড়ীর শীর্ষ ব্যবসায়ী আজাদ

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:
বিগত সরকারের আমলের হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা ও জীবননাশের হুমকি থেকে রক্ষা পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনার ঠিক পরদিনই গ্রেপ্তার হন রাজশাহীর গোদাগাড়ীর শীর্ষ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক মো: আবুল কালাম আজাদ। গ্রেপ্তার ও কারাবাসের দীর্ঘ ২৩ দিন পর গত ১৩ আগস্ট আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন তিনি। জেল থেকে বেরিয়েই নিজ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আবারো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের এই অনুসারী।
​আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যরাতে আটক
ঘটনার বিবরণ ও লিখিত আবেদন সূত্রে জানা যায়, মো: আবুল কালাম আজাদ মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স এম.এ ব্রিকস ও মা ব্রিকস-এর স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি সোনামসজিদ আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপ এবং রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আরসিসিআই) একজন নিয়মিত সদস্য। একজন দায়িত্বশীল ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি প্রতি বছর সরকারি কোষাগারে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ লাখ টাকা ভ্যাট ও আয়কর প্রদান করে আসছেন।
​জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ায় বিগত ১৭ বছর ধরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের চরম বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ এই ব্যবসায়ীর। প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সাজানো মাদক মামলায় তাকে আসামি করা হতো। এমনকি ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পরও সেই চক্রটি তার ব্যবসা ধ্বংস ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
​এই পরিস্থিতিতে স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনা, জানমালের নিরাপত্তা এবং পূর্বের সকল ভিত্তিহীন মামলার নিরপেক্ষ উচ্চতর তদন্তের দাবি জানিয়ে গত ১৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দেন তিনি। তবে আবেদন করার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ২০ জুলাই মধ্যরাতে রাজশাহী জেলা ডিবি ও গোদাগাড়ী থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিষালবাড়ী (সাগর পাড়া) এলাকার নিজ বাসস্থান থেকে তাকে আটক করে।

আজাদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই তাকে মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কালামের সাথে তার আপন চাচা ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। সাবেক সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাইফুল কালামের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। পরিবারের দাবি, সাইফুল ও তার চক্রটি অন্য সাংবাদিকদের ব্যবহার করে কালামকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পঙ্গু করতেই এই আটকের ঘটনা ঘটিয়েছে।
​তবে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাকে আটক করা হয়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়েরকৃত একটি পুরোনো মামলায় তদন্তের স্বার্থে এবং প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
​২৩ দিন পর জামিনে মুক্ত ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
আটকের দীর্ঘ ২৩ দিন পর গত ১৩ আগস্ট কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত পান ব্যবসায়ী আজাদ। জেল থেকে বের হওয়ার পর তিনি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে জাতীয়তাবাদী দলের একজন কর্মীকে এভাবে হয়রানির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। একই সাথে তিনি ও তার পরিবারের সার্বিক জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও বিচার প্রার্থনা করেছেন।

শিরোনাম

Chief Editor

Johny Watshon

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam, quis nostrud exercitation ullamco laboris nisi ut aliquip ex ea commodo consequat. Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur

Quick Links