বিএসএফ নিতে প্রস্তুত, আইনি জটিলতায় নিজ দেশে ফিরতে পারছে না চার ভারতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: ছয় মাস ধরে নিজ দেশে ফিরতে পারছে না এক বছর আগে বাংলাদেশে এসে আটকে পড়া চার ভারতীয় নাগরিক। বর্তমানে এক নারীসহ ৪ ভারতীয় নাগরিক আশ্রয়দাতা এক বাংলাদেশির বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি নিয়ে জামিনে থাকা ৪ ভারতীয় নাগরিক মঙ্গলবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেছেন।

এদিকে আদালতের নির্দেশে তাদের আশ্রয়দাতা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়াগোলা মহল্লার ফারুক হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ৪ জন মানুষের ভরণপোষন চালিয়ে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে তা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই অবিলম্বে তিনি ভারতীয় নাগরিকদের নিজ দেশে পাঠানোর আহবান জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গত বছরের জুনে রংপুরের এক সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে ভারতের পশ্চিমবাংলার বীরভুম জেলার মুরারই থানার ধিতোরা গ্রামের দুইজন নারী, দুইজন শিশু ও দুইজন পুরুষ বাংলাদেশে আসেন। এরা হলেন, দানিশ শেখ (২৮), তাঁর স্ত্রী সোনালী বিবি (২৬), তাঁদের ৮ বছর বয়সী ছেলে সাদির শেখ, সুইটি বিবি (৩৩) এবং তার ১৬ ও ৬ বছর বয়সী দুই ছেলে কুরবান শেখ ও ইমাম শেখ। তাদের মধ্যে সোনালী বিবি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশ্রয় নেয়। পরে ২০ আগস্ট সদর থানা পুলিশ তাদের শহরের আলীনগর এলাকা থেকে আটক করে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। তবে তাদের সঙ্গে থাকা দুই শিশুর বিরুদ্ধে কোন মামলা দেওয়া হয়নি। এসময় ভারতীয় ৬ নাগরিককে নিশে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার হলে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২৬ সেপ্টেম্বর তাদের ৪ সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে তাদের আইনজীবি বিষয়টি জানালে বিচারক ১ ডিসেম্বর তাদের স্থানীয় জিম্মাদার ফারুক হোসেনের অনুকূলে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। ওইদিন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবি ও তার শিশু সন্তানকে সোনামসজিদ দিয়ে গ্রহণ করে বিএসএফ।

এদিকে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া ভারতীয় নাগরিক সুইটি বিবি তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ করে বলেন, তাদের মানবেতর জীবন কাটছে। এছাড়া সোনালী বিবির স্বামী দানিশ শেখ বলেন, ৬ মাস আগে তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে বিএসএফ ফেরত নিয়েছে। এখন তিনিও দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন।

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা চার নাগরিককে ফেরত নিতে প্রস্তুত আছেন। এক সপ্তাহ ধরে তারা বাংলাদেশ সীমান্তে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু বিজিবি তাদের পুশব্যাক না করায় চারজন নিজ দেশে ফিরতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে তাদের আইনজীবী একরামুল হক পিন্টু বলেন, আদালত চারজনকে জামিন দিয়েছে এবং তারা নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। মানবিক বিবেচনায় ভারতীয় নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এবিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন, ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য দেশের উচ্চপর্যায়ের কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন । এছাড়া তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদেশ দিলে এবং আদেশের কপি হাতে পেলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, ঘটনাটি আইন-আদালত এবং দুদেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Next Post

পুঠিয়ায় জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই আদিবাসীর বাড়ি ভাংচুর, উচ্ছেদের অভিযোগ

বুধ জুন ১৭ , ২০২৬
পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় আদিবাসীদের বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট, বসতবাড়ির যায়গা দখল ও জোর করে মাছ ধরে নেয়া এবং গাছপালা কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ মাসের ১২ তারিখ সকাল ১১ টার দিকে ওই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাসন্তি বলেন, আমার পিতার জমিতে আমি বাড়ি করে বসবাস করছি কিন্তু পড়া এসে আমার বাড়িঘর […]

এই রকম আরও খবর

Chief Editor

Johny Watshon

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam, quis nostrud exercitation ullamco laboris nisi ut aliquip ex ea commodo consequat. Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur

Quick Links