আটক সোনার বার ও হেরোইনকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে : ২ মামলায় মাস্টারমাইন্ড কুদ্দুস

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী :- গোদাগাড়ীতে আটক স্বর্ণের বার ও হেরোইনকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ঘোর আলোচনা সবখানেই। প্রত্যাক্ষদর্শীদের কথা না বলতে হুমকি দেওয়া, সোর্সকে চাপ প্রয়োগ করে এলাকার বাইরে পাঠানো, অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে সাংবাদিককে ফাঁসানোর হুমকি নিয়ে এমন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার হাটপাড়া ঘাট এলাকায় গত ২০ অক্টোবর একটি স্বর্ণের চালান আটক করে গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ। এ নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। সংবাদ প্রকাশের পর এবং পুলিশের হুমকির মুখে অজ্ঞাতনামায় মামলায় ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে ক্যামেরার সামনে মুখ খুলছে না কেউই।
ক্যামেরার বাইরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, গত ২০ অক্টোবর রাজশাহী থেকে এক ব্যক্তি আর ওয়ান ফাইভ বাইক যোগে গোদাগাড়ী ডাইংপাড়া মোড়ের নিমতলা এলাকায় স্বর্ণের বারের হাতবদল করে। এরপর ঐ ব্যক্তি গোদাগাড়ী পৌরসভার সামনে ঈদগাহ এলাকায় আরেক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়। পরে বহনকারী মোশাররফের কাছে পৌঁছে দেন তিনি। আসামি মোশাররফকে স্বর্ণ দেওয়ার পরেই ঐ ব্যক্তি খবর দেন হাটপাড়া এলাকার সোর্স রিংকুকে। এরপর রিংকু নজর রাখে মোশাররফের পথে। আসামি মোশাররফ আনুমানিক ৩ টার সময় নৌকার ধারে পৌছানোর পরই রিংকু পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে এস আই কুদ্দুস, এএসআই মজনু একজন কনস্টেবল সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এসময় মোশাররফ তার নৌকায় পানি সেচ দিচ্ছিলেন।তাকে দেখা মাত্রই পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে আসেন থানায়। পরে এসআই কুদ্দুস যোগাযোগ করেন ভারপ্রাপ্ত ওসি মোয়াজ্জেম ও সহকারী পুলিশ সুপার গোদাগাড়ী সার্কেল মীর্জা মোঃ আব্দুস ছালামের সাথে। এসময় মীর্জা তাদের সার্কেল অফিসে আসতে বলেন। সেখানে গিয়েই পাকা হয় প্ল্যান। এসআই কুদ্দুসের প্ল্যানে আত্মসাৎ করা হয় স্বর্ণ।
স্বর্ণ চোরাচালানের আসামি আটকের সময় উপস্থিত হাটপাড়া ঘাটের মমিন মাঝি, হাটপাড়া এলাকার মুহিন ইসলাম (১৪) ও একই এলাকার নিতাই জানান, আসামিকে বেলা ৩ টার সময় কাউকে কিছু না বলেই তুলে নিয়ে যান গোদাগাড়ী থানা পুলিশ। পরে আসামীকে ওই একই স্থানে নিয়ে গিয়ে দুজন স্বাক্ষীর সামনে ৫ টি বারের খন্ড অংশ বের করেন।
পরে একটি স্বর্ণকারের কাছে যাওয়া হয়। প্রথমে স্বর্ণকারের ভাষ্যমতে, বার ছিলো ৬ টা, কোনো খন্ড অংশ নয়। পরে অবশ্যই ভাষ্য চেঞ্জ করেন। বিশ্বাস্ত সুত্র বলছে ওই স্বর্ণকারের নিকট কাটা হয় বারগুলো। বার ভাগ হয় ৫ ভাগে।
এদিকে গোদাগাড়ী থানায় সম্প্রতি হেরোইন উদ্ধার নিয়ে নানা ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৩ অক্টোবর ৫০০ গ্রাম হেরোইনসহ দুজনকে আটক দেখায় গোদাগাড়ী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করে মিনাল নামে এক সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেন ১ কেজি ৯০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটকের পর ৫০০ গ্রাম দিয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে। পরে থানার এস আই কুদ্দুস, সেকেন্ড অফিসার এসআই জুয়েল ও ওসি মোয়াজ্জেম মিলে মিনালকে ওই মামলার অজ্ঞাত আসামী করার ভয় দেখিয়ে তার পোস্ট ডিলিট করতে বাধ্য করেন।


এস আই কুদ্দুস বলেন, এ ঘটনায় মিনালকে থানায় ডাকা হয়েছিলো। তথ্য প্রমাণ না থাকায় সে থানায় এসে ভুল স্বীকার করে পোস্ট ডিলিট করেন। অজ্ঞাত আসামী করার হুমকির বিষয়টি স্বীকার করেন সাংবাদিক মিনাল।
জানা গেছে গত ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে এগারোটায় কুঠিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংলগ্ন নদীর ধারে দুজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থলে স্থানীয় অনেকেই জানায় হেরোইন প্রায় দেড় কেজি’র মতো হবে। তবে থানা পুলিশ ৫০০ গ্রাম দিয়ে আটক গোলাম মোস্তফা ও আব্দুর রশিদকে মামলা দেয়। ওই মামলায় অজ্ঞাত ২/৩ জনকে আসামী করা হয়। অজ্ঞাত আসামীর ভয় দেখায় মিনাল নামে এক সাংবাদিককে।
ওই ঘটনার সোর্সের দেওয়া তথ্য মতে ১ কেজি ৯০০ গ্রাম হেরোইন ছিলো আসামীদের নিকট। পরে ১ কেজি ৪০০ গ্রাম গায়েব করা হয়েছে। তবে অজ্ঞাত আসামীর ভয়ে পরে ওই সোর্স তার ভাষ্য চেঞ্জ করেন। তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এসব বিষয় কথা বললে ওসি মোয়াজ্জেম বলেন, সব তথ্যই ভুল। স্বর্ণের বার যা ছিলো তা দিয়েই মামলা দেওয়া হয়েছে। হেরোইনের ক্ষেত্রেও একই। স্থানীয়রা হেরোইন উদ্ধারের সময় অনেকেই ছিলো। তারা পুরো ঘটনা ভিডিও করেছে।
কথা বলতে গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মির্জা আব্দুস ছালামকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Next Post

হঠাৎ ধনী রিক্সাচালক আবুল:প্রতারণায় কোটিপতি হওয়ার অভিযোগ

শনি অক্টো. ২৫ , ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদ:দরিদ্র কৃষকের সন্তান মো. আবুল (৫৫)। শিক্ষাগত যোগ্যতা সীমিত। স্বাক্ষর করতে গেলেও বেগ পেতে হয়। কখনো ভ্যান, কখনো রিক্সা চালিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। কয়েক বছর আগেও রাজশাহী শহরের রাস্তায় রিক্সা চালাতে দেখা যেতো তাকে। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে যায় তার ভাগ্য। রিক্সাচালক থেকে পরিণত হন কোটিপতিতে। নির্মাণ করেন বিলাসবহুল […]

Chief Editor

Johny Watshon

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam, quis nostrud exercitation ullamco laboris nisi ut aliquip ex ea commodo consequat. Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur

Quick Links