নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা (রাজশাহী) রাজশাহীর বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার একক নিয়ন্ত্রণ ও স্বেচ্ছাচারিতায় ভেঙে পড়েছে দাপ্তরিক সেবা কার্যক্রম। সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব নিয়মে দপ্তর পরিচালনা, সরকারি ওষুধ ও ভ্যাকসিন পাচার এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে ড্রেসার দিয়ে পশুর চিকিৎসা করানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে অতিষ্ঠ স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষ।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস শুরুর কথা থাকলেও ভেটেরিনারি সার্জন শরিফুল ইসলাম অফিসে আসেন বেলা ১১টার পর। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের প্রশ্রয়েই তিনি এমন স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার পাওয়া যায় না। অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রায়ই ‘ফিল্ড ভিজিট’-এর অজুহাত দিয়ে দায় সারেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভ্যাকসিন ও মূল্যবান ওষুধ গোপনে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এই চক্রের মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন রাকিব হাসান নামে এক পল্লী চিকিৎসক (পি-আই লাইসেন্সধারী)।
সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে সরকারি ওষুধসহ রাকিবকে হাতেনাতে ধরা হলেও তিনি মালামাল ফেলে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে আসা রোগীদের শুধু প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সরকারি ওষুধ মজুত থাকলেও রোগীদের বাইরে থেকে চড়া দামে তা কিনতে বাধ্য করা হয়।
ঝুঁকিতে গবাদিপশু ভেটেরিনারি সার্জনের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের মূল চিকিৎসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ড্রেসার রনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না হয়েও তিনি অবৈধভাবে গবাদিপশুকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা প্রদান করছেন। ড্রেসারের লেখা প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার প্রমাণ এখন সংবাদকর্মীদের হাতে।
”একজন ড্রেসার যদি ডাক্তারের কাজ করেন, তবে আমাদের পশুর জীবন তো ঝুঁকিতে থাকবেই। আমরা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”
দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১১ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। এই জনবল সংকটকে পুঁজি করে অনিয়ম আরও জেঁকে বসেছে। অনিয়মের বিষয়ে দপ্তরের প্রধান ডা. মো. আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
স্থানীয় খামারিদের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই দপ্তরের অনিয়ম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

