বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের রামরামা-চৌগাছাপাড়া এলাকায় বারনই নদীতে অবৈধ ‘সুতি’ জাল দিয়ে অবাধে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। নদীর স্রোতপ্রবাহে বাঁশের বেড়া ও নিষিদ্ধ জাল দিয়ে ঘেরাও করায় একদিকে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় প্রজাতির পোনা ও মা মাছসহ জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই একটি প্রভাবশালী মহল নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিষিদ্ধ সুতি ও রিং জাল পেতে মাছ শিকার করছে। ইটভাটার মালিক আজাদ, মোহন ও জামালসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে নদীতে বাঁশের বেড়া বা ব্যারিকেড দিয়ে এই মাছ নিধন চলছে। প্রকাশ্যে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও এটি বন্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি এলাকাবাসীর। জালের ফাঁদে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাছের পোনা, মা মাছ এবং শামুকসহ নানা জলজ প্রাণী মারা পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বারনই নদীর মৎস্যসম্পদ ও বাস্তুতন্ত্র বিনষ্ট করছে।
নদীসংলগ্ন এলাকার এক ভুক্তভোগী মৎস্যজীবী বলেন, “আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু প্রভাবশালীরা অবৈধ সুতি জাল দিয়ে নদী ছেঁকে মাছ তুলে নেওয়ায় সাধারণ মৎস্যজীবীরা এখন নিঃস্ব হতে বসেছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইটভাটা মালিক আজাদ ও জামাল অবৈধ জাল বসানোর কথা স্বীকার করে বলেন, “আমরা সুতি জাল দিয়েছি, তবে এর জন্য এখনো কোনো প্রশাসনিক অনুমতি পাইনি। অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান বলেন, “উন্মুক্ত জলাশয়ে বা নদীতে সুতি বা যেকোনো ধরণের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। এর জন্য কাউকে কোনো অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি জেনেছি, খুব দ্রুতই অভিযান চালিয়ে জাল ও ব্যারিকেড অপসারণ করা হবে।”
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ জানান, “নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ করে বা অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বারনই নদীতে অবৈধ সুতি জাল ও ব্যারিকেড সরিয়ে নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ লক্ষ্য ইতোমধ্যে আমি এসিল্যান্ড ও মৎস কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।
বারনই নদীর ঐতিহ্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও মৎস্যজীবীরা।
