রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভায় কোভিড-১৯ প্রকল্পের প্রায় ১ কোটি ৬ হাজার টাকার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত কাজ বাস্তবায়ন না করেই বিভিন্ন খাতে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এতে সরকারি অর্থ লোপাটের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পৌরসভার সচিব মতলেবুর রহমান মতলু, পৌর প্রকৌশলী ও হিসাবরক্ষক। প্রকল্পের অর্থ ছাড়, কাজের পরিমাপ, বিল প্রস্তুত ও পরিশোধের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোভিড-১৯ প্রকল্পের নামে কাগজে-কলমে কাজ দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক প্রকল্পের অস্তিত্ব নেই। আবার কিছু এলাকায় নামমাত্র কাজ করে পুরো অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের তালিকা, প্রাক্কলন, কার্যাদেশ, কাজের পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার ও অর্থ ছাড়ের নথি যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
সরকার পতনের পর প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের দাবি, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তাহেরপুর পৌরসভার বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়। কোভিড-১৯ প্রকল্পের অর্থ ব্যয়েও তদারকির ঘাটতির সুযোগ নিয়ে সরকারি অর্থের ‘হরিলুট’ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে—এমন কয়েকজন কর্মচারী এখনও পৌরসভায় চাকরিতে বহাল রয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের কেউ কেউ কর্মস্থলে অনুপস্থিত বা পলাতক থাকলেও বেতন-ভাতা ও বিভিন্ন বিল উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অর্থ উত্তোলনে সচিব মতলেবুর রহমান মতলু সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
একই এলাকায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন
সচিব মতলেবুর রহমান মতলু দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন একই এলাকায় দায়িত্ব পালন করায় তিনি স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন কি না এবং এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন।
বর্তমানে তাহেরপুর পৌরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অধীনে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কোভিড-১৯ প্রকল্পের প্রতিটি কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করে বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবে কত টাকা খরচ হয়েছে এবং কত টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে—তা যাচাই করা হোক।
সচিবের ‘পরে কথা হবে’, ইউএনও বললেন তদন্ত হবে
অভিযোগের বিষয়ে তাহেরপুর পৌরসভার সচিব মতলেবুর রহমান মতলুর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি ব্যস্ত আছি, পরে কথা হবে।” পরে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কোভিড-১৯ প্রকল্পের বিপুল অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় প্রকল্পের সব নথি যাচাই, সরেজমিন তদন্ত এবং বিল উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
