যেটি দেশের অর্থনীতির জন্য সুখবর নয়।

শেয়ার করতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন

আভা ডেস্ক : আড়াই মাসেও সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেনি দেশের প্রথম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। কখনও পাইপলাইনে ত্রুটি, কখনও সাগরের তীব্র স্রোতের অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। রোববার সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী পাইপলাইনের ছিদ্র মেরামত সম্পন্ন হলেও এখন পর্যন্ত মূল পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি ভাসমান টার্মিনালকে। এর ফলে পেট্রোবাংলা ছাড়াও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শিল্প মালিকরা- যারা এপ্রিলে নিশ্চিত এলএনজি সংযোগ পাবেন ধরে নিয়ে শিল্পে বিনিয়োগ করেছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, বহুল প্রত্যাশিত এলএনজি নিয়ে শুরুতেই এ রকম অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় এক ধরনের আস্থাহীনতার পরিবেশ ঘনীভূত হচ্ছে। যেটি দেশের অর্থনীতির জন্য সুখবর নয়। একই সঙ্গে তারা এ-ও প্রত্যাশা করেন, সংশ্লিষ্ট মহল বিদ্যমান সংকট দ্রুত উত্তরণ করে সংযোগ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

বলা হচ্ছে, বছরে ১৬টি জাহাজ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে টার্মিনালের সঙ্গে। কিন্তু আড়াই মাসেও প্রথম কিস্তির এলএনজি বহনকারী জাহাজটি যুক্ত হতে পারল না মূল পাইপলাইনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে একদিকে সাগরে যেমন জাহাজ-জটের সৃষ্টি হবে, অপরদিকে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

এদিকে ভাসমান টার্মিনালটি পড়ে থাকায় প্রতিদিনই উড়ে যাচ্ছে অর্ধকোটি টাকার গ্যাস। একই সঙ্গে পরিচালন বাবদও আর্থিক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে পেট্রোবাংলাকে।

সম্প্রতি সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আশ্বাস দিয়ে বলেন, চলতি (জুলাই) মাসে পাইপলাইনে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে। তবে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এক অনুষ্ঠানে বলেন, মধ্য জুলাইয়ে এলএনজি যুক্ত হবে পাইপলাইনে। কিন্তু এক্সিলারেট এনার্জি সূত্র বলছে ভিন্ন কথা। সাগরে এ রকম স্রোত অব্যাহত থাকলে তাদের পক্ষে দ্রুত এলএনজি পাইপলাইনে দেয়া সম্ভব হবে না। এক্সিলারেট এনার্জির জাহাজের সঙ্গে থাকা চারজন বিশেষজ্ঞ ডুবুরি প্রকৌশলী এখন কাজ করছেন। তারা সাগরের তলদেশে গিয়ে কাজ করছেন। প্রতিবার ডুব দেয়ার পর ওই ডুবুরিরা সাগরের তলদেশে চার ঘণ্টা থাকতে পারেন। কিন্তু তীব্র স্রোতের কারণে এখন ৪০ মিনিটের বেশি থাকতে পারছেন না। এ কারণে অন্যান্য ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হলেও টার্মিনালের সঙ্গে মূল সঞ্চালন পাইপলাইন যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, এলএনজির প্রথম কিস্তি নিয়ে গত ২৪ এপ্রিল কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৌঁছায় কমিশনিং কার্গো। ১২ মে পাইপলাইনের মাধ্যমে এ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা ছিল। কিন্তু এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) থেকে জাতীয় গ্রিডের আগ পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার পাইপলাইনের বিভিন্ন অংশে ছিদ্র দেখা দেয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এরপর পুনরায় সরবরাহের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২৬ মে। পরে জানানো হয়, ৪ জুলাই। কিন্তু তাও সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় ৭৫ দিন ধরে সাগরে নোঙর করে বসে আছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ ঘনমিটার (৬০ হাজার ৪৭ টন) এলএনজিবাহী জাহাজটি। বিশাল এ জাহাজের পরিচালন ব্যয় (ফিক্সড অপারেটিং কস্ট) ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ দৈনিক ডেমারেজ বা লোকসান গুনতে হচ্ছে ৫০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪০ লাখ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনাল নির্মাণ ব্যয় বহন করলেও অপচয়ের ব্যয় বহন করতে বাধ্য নয়।

নির্মাণ ও ব্যবহার চুক্তি অনুযায়ী ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) ও টার্মিনাল থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের ব্যয় মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির। কিন্তু গ্যাসের অপচয় ও নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করতে না পারার কারণে যে ক্ষতি হচ্ছে তা আমদানিকারক হিসেবে পেট্রোবাংলাকেই বহন করতে হবে।

তবে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ গত সপ্তাহে তার দফতরে কয়েকজন সাংবাদিককে বলেন, কার্গো অপেক্ষায় রাখার জন্য সরকারের কোনো আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না। এই দায়িত্ব সরকারের নয়। এটা এক্সিলারেট এনার্জিই বহন করছে। পাইপলাইনের যে জটিলতা ছিল তা সমাধান হয়েছে। আপাতত কোনো সমস্যা নেই। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি আছে। ওগুলো শেষে গ্যাস সংযোগ দেয়া যাবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম যুগান্তরকে বলেন, ইভাপোরেটিংয়ের কারণে তো গ্যাসের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। তবে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এলএনজি পাইপলাইন সঠিকভাবে নির্মাণ করতে না পারায় এটা হচ্ছে। পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমিশনিং কার্গো বসিয়ে রাখার কারণে বয়েল-অব গ্যাস ও পরিচালন ব্যয় বাবদ সংস্থাটির দৈনিক প্রায় অর্ধকোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া কমিশনিং কার্গোর পর ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী যেসব জাহাজ আসার কথা, সেগুলো না আসার কারণেও গ্যাস ব্যবহার ছাড়াই ব্যয় বহন করতে হবে। এতে করে পেট্রোবাংলার আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে।
যুগান্তর

Next Post

ছাত্রলীগ নেতাদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন

সোম জুলাই ৯ , ২০১৮
শেয়ার করতে নিচের বাটনে ক্লিক করুনava desk: কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলকারী ছাত্রলীগ নেতাদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে তারা এ দাবি জানান। এর আগে ৩০ জনের বেশি শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে […]

Chief Editor

Johny Watshon

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam, quis nostrud exercitation ullamco laboris nisi ut aliquip ex ea commodo consequat. Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur

Quick Links