সালমান শাহর মৃত্যুরহস্য নিয়ে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে তার পরিবার ।

আভা ডেস্কঃ চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুরহস্য নিয়ে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেয়া প্রতিবেদন মনগড়া উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেছে তার পরিবার। সোমবার পিবিআইর সংবাদ সম্মেলনের পরপরই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী বলেন, ‘এই প্রতিবেদন মনগড়া। এটা আমি মানি না, মানব না।’

তিনি বলেন, প্রতিবেদনে যে সাক্ষীর কথা বলা হয়েছে সেগুলো সাজানো। বিপ্লব যে বলছে ইমনের (সালমান শাহ) বন্ধু… কী নাম, সৌমিক? সে তো ইমনের বন্ধু ছিল না, সৌমিক ছিল সামিরার পুরোনো প্রেমিক।’ তিনি বলেন, সালমানের সঙ্গে তো আমার কোনো বিরোধ ছিল না। এ সবকিছুই সাজানো নাটক, আমি মানি না, মানব না।

সালমানের মামা আলমগীর কুমকুমও এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, পিবিআইর তদন্তে আলামত বিশ্নেষণ করা হয়নি। রাজসাক্ষীর সঙ্গে কথা বলা হয়নি। এ তদন্ত প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে একমাত্র সালমান শাহ এমন একজন তারকা, তার জন্য ৪৬ ভক্ত আত্মাহুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, সামিরাকে ডিভোর্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার একরাতের মধ্যেই সালমানকে সরিয়ে দেয়া হয়।

আলমগীর কুমকুম বলেন, প্রয়োজনে উচ্চ আদালত কিংবা আন্তর্জাতিক আদালতে যাব। যতদিন বেঁচে থাকব সালমান ভক্তদের নিয়ে আন্দোলন করে যাব।

সংবাদ সম্মেলন করে পিবিআইয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন রেখে সালমানের মামা বলেন, পিবিআই প্রতিবেদন দেবে আদালতে। সংবাদ সম্মেলন করে তা প্রকাশ করার মানে কী।

সোমবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সালমান শাহ হত্যার নেপথ্যের কারণগুলো তুলে ধরেন পিবিআইয়ের (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) মহাপরিচালক ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, সালমান শাহ হত্যার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। সালমান পারিবারিক কলহে আত্মহত্যা করেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে দেশীয় চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে সালমান শাহর। স্মার্টনেস-গ্লামার ও পারসোনালিটির কারণে রাতারাতি তরুণ প্রজন্মের আইকনে পরিণত হয়ে ওঠেন এ নায়ক। মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি ছবি করেন। যার অধিকাংশই সুপারহিট। মৌসুমীর সঙ্গে জুটি বেঁধে চলচ্চিত্র অঙ্গনে পা রাখলেও সালমানের বেশিরভাগ ছবির নায়িকা শাবনূর। এই জুটি তখন এমন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে, যে কোনো ছবি মুক্তি পেলেই দর্শক প্রেক্ষাগৃহে হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। একপর্যায়ে শাবনূরের সঙ্গে বিবাহিত সালমানের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ওঠে। এর পর কলহ দেখা দেয় সালমানের পরিবারে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের মৃত্যু হয়। সেই থেকে তার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। হত্যা নাকি আত্মহত্যা? অবশেষে পিবিআই জানাল, আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের রহস্যজনক মৃত্যুর পর এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়। প্রায় ১২ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তাতেও সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘অপমৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজির আবেদন দাখিল করেন। নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।

মামলাটি এর পর র্যা ব তদন্ত করে। তবে র্যা বের দ্বারা তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করে। ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র্যা বকে মামলাটি আর না তদন্ত করার আদেশ দেন। তার পর মামলাটির তদন্তভার যায় পিবিআইয়ের হাতে।

দীর্ঘ তদন্তের পর সোমবার পিবিআই জানাল সালমানকে হত্যা করা হয়নি। তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

Next Post

হ‌রিণের চামড়ার ওপর সৌম্যর আশীর্বাদ সামাজিক মাধ্যমে বির্তক, যা বললেন বাবা

মঙ্গল ফেব্রু. ২৫ , ২০২০
আভা ডেস্কঃ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার বুধবার বিয়ে করছেন। এরই মধ্যে আশীর্বাদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছেন তিনি। গেল শুক্রবার সাতক্ষীরা শহরের মধ্য কাটিয়ায় নিজ বাড়িতে তা সারেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার। সেই অনুষ্ঠানের সব কার্যক্রম নিষ্পন্ন হয় হরিণের চমড়ার ওপর। সঙ্গে সঙ্গে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এর পরই […]

Chief Editor

Johny Watshon

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam, quis nostrud exercitation ullamco laboris nisi ut aliquip ex ea commodo consequat. Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur

Quick Links