বাংলাদেশের পদক্ষেপ উচ্ছ্বসিত প্রসংসার দাবিদার, সফররত জাতিসংঘের মহাসচিব।

জাতিসংঘ নির্ধারিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল-এসডিজি) বাস্তবায়নের পথে বাংলাদেশের নেওয়া পদক্ষেপের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন সফররত জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। একে অন্যদের জন্য ‘অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ‘সীমান্ত উন্মুক্ত’ করে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি। রবিবার (১ জুলাই) রাজধানী ঢাকায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আয়োজিত একটি মাল্টি স্টেকহোল্ডার সংলাপে গুতেরেস এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের সংবাদবিষয়ক ওয়েবসাইট ইউএন-নিউজের খবর থেকে এসব কথা জানা গেছে।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস শনিবার (৩০ জুন) দিবাগত রাতে ঢাকায় আসেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমও একই দিন বিকালে ঢাকায় আসেন। রবিবার (১ জুলাই) ঢাকায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আয়োজিত একটি মাল্টি স্টেকহোল্ডার সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়নকে আলোচনায় আনেন। বলেন, টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো জাতীয় উন্নয়ন নীতিমালার সঙ্গে একীভূত করে নেওয়ার যে কাজ বাংলাদেশ করেছে তা ‘অন্যদের জন্য অনুকরণীয়।’

গত বছর ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সন্ত্রাসবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের নামে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতে থাকে ধারাবাহিকভাবে। নিধনযজ্ঞের বলি হয়ে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় অন্তত সাত লাখ রোহিঙ্গা। মূলত রোহিঙ্গা সংকটে ভূমিকা রাখতে ঢাকা সফর করছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বে যখন বহু দেশের সীমান্তই বন্ধ, তখন বাংলাদেশ সরকার তাদের সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছে এবং মিয়ানমারে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া তাদের ভাই-বোনদের গ্রহণ করেছে।’

এদিন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও কথা বলেছেন গুতেরেস। বাংলাদেশের মতো নিম্নাঞ্চলীয় দেশগুলোর ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় করা অঙ্গীকারগুলো উপলব্ধি করতে দেশগুলোকে অনুরোধ জানান তিনি। সেইসঙ্গে দেশগুলোর উষ্ণতা বৃদ্ধির হার সীমিত করতে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়নের ওপরও জোর দিয়েছেন গুতেরেস।

জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে এটাই অ্যান্তোনিও গুতেরেসের প্রথম বাংলাদেশ সফর। এর আগে শরণার্থী সংস্থার প্রধান হিসেবে এই রোহিঙ্গাদের দেখতেই বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি। সফরসূচির অংশ হিসেবে আজ (সোমবার) রোহিঙ্গা শিবিরে ভাগ্যদুর্গত শরণার্থীদের দেখতে গেছেন গুতেরেস। তহবিল দাতাদের সহায়তা বাড়াতে বিভিন্ন প্রতিনিধি ও ত্রাণকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।

বাংলাট্রিবিউন

Next Post

সফররত জাতিসংঘের গুতেরেস ও জিম কক্সবাজার ।

সোম জুলাই ২ , ২০১৮
কক্সবাজার পৌঁছেছেন বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা তাদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর তারা গাড়িযোগে কলাতলীস্থ হোটেল সায়মনে যান। সেখানে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং […]

এই রকম আরও খবর

Chief Editor

Johny Watshon

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam, quis nostrud exercitation ullamco laboris nisi ut aliquip ex ea commodo consequat. Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur

Quick Links