পবিত্র শবে কদর আজ

শেয়ার করতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন

আভা ডেস্কঃ সমগ্র মানবজাতির জন্য আজ রোববার দিবাগত রাত ‘হাজার মাসের চেয়েও উত্তম’ অত্যন্ত বরকত ও পূণ্যময়। পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর আজ।

পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল কোরআন লাইলাতুল কদরে নাজিল হয়। তাই মুসলিম উম্মাহ’র কাছে এ রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত অত্যধিক। প্রতিবছর মাহে রমজানের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে শবে কদর পালন করা হয়।

অবশ্য ২০ রমজানের পর যেকোনো বিজোড় রাতে কদর হতে পারে। তবে ২৬ রমজানের দিবাগত রাতেই লাইলাতুল কদর আসে বলে আলেমদের অভিমত।

ইসলাম ধর্ম অনুসারে এ রাতে মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত পূণ্যময় ও মহাসম্মানিত। এ রাতে সূর্যাস্তের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ঊর্ধ্বগত থেকে পৃথিবীর বুকে এত বেশি কল্যাণ ও বরকত অবতীর্ণ হয়, যা ভূপৃষ্ঠে সংকুলান হয় না।

কদরের আরেক অর্থ তাকদির ও আদেশ। এ রাতে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত তাকদির ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে প্রত্যেক মানুষের হায়াত, রিজিক, ইত্যাদির পরিমাণ নির্দিষ্ট ফেরেশতাকে লিখে দেওয়া হয়।

মহিমান্বিত এ রাত সর্ম্পকে হাদিস শরীফে অসংখ্য ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। এমনকি কোরআন শরীফে সুরা কদর নামে স্বতন্ত্র একটি পূর্ণ সুরা নাজিল হয়েছে। এই সুরাতেই শবে কদরের রাত্রিকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলে বর্ণিত হয়েছে। পূর্ববর্তী নবী এবং তাদের উম্মতগণ দীর্ঘায়ু লাভ করার কারণে বহু বছর আল্লাহর ইবাদত করার সুযোগ পেতেন। সাহাবায় কেরামগণের এ আক্ষেপের প্রেক্ষিতে চিন্তা দূর করার জন্য সুরাটি নাজিল হয়।

আল্লাহ কোরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কি জানো? কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতারা ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, বিরাজ করে উষার আবির্ভাব পর্যন্ত।’ (সূরা আল- কদর, আয়াত ১-৫)

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, শবে কদরে হজরত জিবরাঈল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট একদল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাজরত অথবা জিকিরে মশগুল থাকে তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। (মাযহারি)

আজকের রাতে ব্যক্তি-সমাজ-রাষ্ট্রের কল্যাণে এবং বিশেষ করে এ সময়ে পৃথিবীতে মহামারি হিসেবে আবির্ভূত হওয়া করোনাভাইরাসের কবল থেকে মুক্তিলাভের জন্য ইবাদত-বন্দেগি করে কাটাবে মানুষ। মহান আল্লাহ যেন এ প্রার্থনা কবুল করে নেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও গুনাহ মাফ এবং অধিক সওয়াব হাসিলের আশায় নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে রাতটি অতিবাহিত করবেন।

শবে কদর উপলক্ষে সোমবার সরকারি ছুটি থাকবে।

পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা  কদরের পবিত্র এই রজনীতে করোনা মহামারি থেকে রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ইবাদত ও দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন।

পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আজ রোববার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পবিত্র শবে কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। এ ছাড়া রাতে পবিত্র শবে কদরের ফজিলত ও করণীয়’ শীর্ষক ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ, কিয়াম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মসজিদে মসজিদে করোনা মহামারি থেকে মুক্তির জন্য এবং দেশ জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হবে।

Next Post

বাড়ি ফেরতদের সর্তক করলেন প্রধানমন্ত্রী

রবি মে ৯ , ২০২১
শেয়ার করতে নিচের বাটনে ক্লিক করুনআভা ডেস্কঃ করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের নেওয়া বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে যারা ঝুঁকি নিয়ে ঈদে গ্রামের বাড়ি যেতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছেন তাদের সতর্ক করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় মানুষ পাগল হয়ে গ্রামে ছুটছে।  কিন্তু এই যে আপনারা একসাথে […]

এই রকম আরও খবর

Chief Editor

Johny Watshon

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam, quis nostrud exercitation ullamco laboris nisi ut aliquip ex ea commodo consequat. Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur

Quick Links