গণভবনে সংর্বধনা পাবে অনুর্ধব ১৯, এত অল্প বয়সে এত বেশি সম্মান পাবো কল্পনাও করিনি, শাহিন।

শেয়ার করতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ অনুর্ধ্ব- ১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য শাহীন আলমকে তার নিজ জেলা কুড়িগ্রামের ক্রীড়ামোদী মানুষ সংর্বধনা দিয়েছে।

শুক্রবার সকালে শাহীন আলম ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম শহরে এসে পৌঁছালে তাকে নিয়ে একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের হয়েছে। মিছিলটি সারা শহর প্রদক্ষিণ করে। পরে কলেজ মোড়স্থ বিজয় স্তম্ভে শহীদদের স্মরণ পুষ্পস্তবক অর্পন করেন শাহীন আলম।

এ সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ জেলার বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। পরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহ তার বাড়ি উলিপুর উপজেলার যমুনা পাইকপাড়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় গ্রামবাসীরা তাকে একনজর দেখতে চলে আসে। জেলার উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের যমুনা পাইকপাড়া গ্রামের দিনমজুর শাহাদত হোসেনের পূত্র শাহীন আলম। তিন ভাইবোনের মধ্যে শাহীন আলম ছোট। তার দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। মা সাতিনা বেগম একজন গৃহিনী। মাত্র দুই শতক জমির উপর তাদের বাড়ি। এছাড়া আর কিছুই নেই।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কুড়িগ্রাম জেলার সহকারী কোচ বিজন কুমার দাস জানান, শাহীন আলমের উত্থান ২০১৬ সালে। এসময় জেলা অনূর্ধ্ব-১৬ টিমের জন্য তাকে প্রথম নির্বাচন করা হয়। এর আগে সে গ্রামেগঞ্জে টেপ টেনিস দিয়ে খেলতো।

স্থানীয় কুড়িগ্রাম ক্রিকেট একাডেমির কোচ মনোজ কুমার দাস ময়না ক্রিকেটে তাকে প্রথম হাতেখড়ি দেয়। এরপর ২০১৭ সালে বিকেএসপির হান্টিং দলের ক্রিকেট কোচ রুশো তাকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়। সেখান থেকেই তার উত্থান।

দীর্ঘদেহীর কারণে স্ট্রাইক বোলার হিসেবে সে শ্রীলংকা ও নিউজিল্যান্ডে জাতীয় দলের বয়সভিত্তিক গ্রুপের হয়ে সফর করে। সর্বশেষ অনূর্ধ্ব- ১৯ যুব বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেয়।

শাহীন আলমের দিনমজুর বাবা শাহাদত হোসেন ও মা সাতিনা বেগম ছেলের এই সাফল্যে দারুন খুশী। তারা জানান, সেদিনের খেলাটি তারা দেখেছেন।অভাবের কারণে ছেলেকে তেমন একটা সহযোগিতা করতে পারেননি বলে তারা দু:খ প্রকাশ করেন।

ক্রীড়া পৃষ্ঠপোষক ফিরোজ আহমেদ ছেলেটি অভাবের কারণে গ্রামের বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার পথ সাইকেলে পাড়ি দিয়ে কুড়িগ্রাম স্টেডিয়ামে এসে প্র্যাকটিস করত। তাকে তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সব রকম সহায়তা করেছি। ওর জন্য সবাই দোয়া করবেন ও যেন ভাল কিছু করতে পারে। শাহীনের জন্য কুড়িগ্রাম বাসী গর্বিত।

বিজন কুমার দাস বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাঈদ হাসান লোবান জানান, ছেলেটি অভাবের কারণে গ্রামের বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার পথ সাইকেলে পাড়ি দিয়ে কুড়িগ্রাম স্টেডিয়ামে এসে প্রাকটিস করত। তাকে সবাই সহযোগিতা করেছে। তার যুব বিশ্বকাপ জয়ে কুড়িগ্রামবাসী গর্বিত।

ক্রিকেটার শাহীন আলম বলেন, বিশ্বকাপ জয়ে দেশের সম্মান বয়ে আনায় আমি গর্বিত। আগামী দুই বছর বিসিবি-২১ নতুন প্রকল্পের সঙ্গে চুক্তি করেছি। সেখানে আরও ভাল করার চেষ্টা করবো। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আগামী ১৯ তারিখে গণভবনে যে সংর্বধনা দেয়া হবে এটা কোনোদিন ভাবিনি। এত কম বয়সে এত সম্মান পাব। তার কাছে সম্মান পাওয়া জীবনে একটি বড় অর্জন। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।

Next Post

ভালবাসা দিবসে গণ বিয়ে অনুষ্ঠিত ।

শুক্র ফেব্রু. ১৪ , ২০২০
শেয়ার করতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন আভা ডেস্কঃ ভালোবাসা কি আর দিনক্ষণ দেখে হয়। অথবা ভালোবাসার জন্য কি আর নির্দিষ্ট দিনের দরকার আছে? প্রতিদিনই তো ভালোবাসা দিবস। এমন অনেক কথাই বলে থাকেন অনেকে। তারপরও বিশ্ব জুড়ে বেশ ঘটা করেই ভালোবাসা দিবস পালন করা হয় । তবে জানেন কি? কোন দেশ […]

এই রকম আরও খবর

Chief Editor

Johny Watshon

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam, quis nostrud exercitation ullamco laboris nisi ut aliquip ex ea commodo consequat. Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur

Quick Links